দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা শেষ

0
58

ডেস্ক প্রতিবেদক ::

দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং ঈমানি জিন্দিগি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। আজ মঙ্গলবার শেষ হয় তাবলিগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা।

মাওলানা সাদ অনুসারীদের পরিচালনায় দ্বিতীয় পর্বের তিন দিনের ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত শুরু হয় সকাল সাড়ে ১১টার কিছু পর। মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মুহাম্মদ শামীম।

টঙ্গীর তুরাগ তীরে সাদ অনুসারীদের ইজতেমায় আত্মশুদ্ধি, সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখো মুসল্লির আকুতিতে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আখেরি মোনাজাতে দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, আখেরাত ও দুনিয়ার শান্তি কামনা করা হয়।

আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে দুই হাত তুলে রহমত কামনা করেন।

মোনাজাতের সময় ময়দান ছাড়িয়ে আশপাশে অবস্থান করা লাখ লাখ মুসল্লির মুখে ছিল ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনি। ইজতেমার ময়দান ও তুরাগ নদের চারপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো মাইকে ছড়িয়ে পড়ছিল প্রার্থনার মিনতি।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব গতকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় একদিন বাড়ানো হয়। ইজতেমার মূল মঞ্চ থেকে বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মুহাম্মদ শামীম।

তিনি আরবি ও উর্দুতে সুমধুর সুরে দোয়া করেন। মুসল্লিরা ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ বলে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় আকুতি জানান। প্রায় আধা ঘণ্টার মতো অনুষ্ঠিত হওয়া আখেরি মোনাজাত শেষ হয় দুপুর ১২টা ২ মিনিটে।

এর আগে মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর রাত থেকে লাখো মুসল্লি হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছান। সকাল আটটার আগেই ইজতেমা মাঠ অনেকটা পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে যেতে না পেরে অনেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়ায় খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন।

চারপাশের সড়কগুলোতে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি নারীরাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছান।

বাদ ফজর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা হাফেজ ইকবাল নায়ার। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশি মাওলানা ওসামা বিন ওয়াসিফ। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে হেদায়েতি বয়ান শুরু করেন দিল্লির মাওলানা মুহাম্মদ শামীম। বয়ানে তিনি বলেন, যে দ্বীন ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে এবং হজরত মুহাম্মদের (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে।

এসময় পুরো ইজতেমা ময়দান সহ তার চারপাশ এলাকা জুড়ে লাখো লাখো মানুষ চোখের দু’নয়নের জ্বল ফেলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর সস্তুষ্টি লাভের আশায় আকুতি ব্যস্ত করে সর্বস্তরের মুসল্লিরা।

আত্মশুদ্বি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সকল বালা মুসিবত থেকে হেফাজতোর আশায় মুসল্লিরা দু’হাত তুলে অস্ত্রসিক্ত চোখের পানি ফেলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারের ফরিয়াদ করেন বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া দেশী বিদেশী সকল মুসলামান ও ইজতেমায় আগত লাখো লাখো মুসল্লি।

দেশের দূর দূরাস্ত থেকে ছুঁটে আসা হাজার হাজার মুসল্লি ও নারী-পুরুষ টঙ্গীতে আসতে থাকে। নানা বয়সী ও নানা পেশায় মানুষ এমনকি প্রায় ২ লাখ নারী ও ভিড় ঠেলে রাস্তার পাশে ও বাড়ির সামনে ও ছাদ সহ বিভিন্ন স্থানে খবরের কাগজ, সিমেন্ডের বস্তা, পলিথিন ও চাদও বিছিয়ে বসে পড়েন। বসে মোনাজাত করেন।

মাঠের মধ্যে জায়গা না পেয়ে এসব মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ ইজতেমা মাঠের চারপাশে রাস্তা, অলি, তুরাগ নদীর ওপর নৌকা, গাড়ির ছাদে, গলি ও আশুলিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন মাঠ ও টঙ্গী, উত্তরা, তুরাগের বাড়ির ছাদে ও শিল্প কলকারখানা ছাদে বসে অবস্থান নেয় এবং তারা সেখানে বসে আখেরি মোনাজাতে শরীক হতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাতের দ্বন্দের কারণে এবার পূর্বঘোষিত তারিখে ইজতেমা আয়োজনে বিলম্ব হয়। পরে স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় তাবলিগের উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে এবারের ইজতেমা একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী এবার একটানা চার দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। দুপক্ষ দুই ভাগে এর নেতৃত্ব দেন। প্রথম ভাগে যোবায়ের পন্থীরা ইজতেমার আয়োজন করে। এরপর দ্বিতীয় ভাগে ইজতেমার আয়োজন করে সা’দ পন্থী ওয়াসিকুল অনুসারীরা

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here