ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ৪৯

0
39

ডেস্ক প্রতিবেদক ::

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হ্যাগিল পার্ক এলাকায় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৯ নামাজ আদায়কারী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তাঁদের পরিচয়ও জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার কিছু পরেই কালো কাপড় ও হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী আল নুর মসজিদে ঢুকে হামলা চালায়। তারপর জানা যায়, শহরের আরো একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ ঘটনার বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।’ পরে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই চরমতম সহিংস ঘটনায় ৪৯ ব্যক্তি জীবন হারিয়েছেন। ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এটা পরিষ্কার যে এ ঘটনাকে এখন সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে অভিহিত করা যায়।’

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দুজন বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।

নিহত আরেক বাংলাদেশির নাম হোসনে আরা, তিনি গৃহবধূ ছিলেন।

অনারারি কনসাল শফিকুর আরো বলেছেন, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিহত ড. সামাদের স্ত্রী।

এদিকে আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো মিশন নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশি দূতাবাসের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা তথ্যমতে, একজন বাংলাদেশি নারী সম্ভবত নিহত হয়েছেন। এখনো পুরো তথ্য জানা যায়নি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাঁদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ হামলার ঘটনায় তা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাঁদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলি লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হ্যাগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন এভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁরা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এ রকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম, লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here