পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা পেল গ্রামবাসী

0
120

ভাঙ্গা সংবাদদাতা ::

বৈশাখ মাস এলে গ্রামবাংলার মাঠে-ঘাটে পথ-প্রান্তে গ্রামীণ মেলার ধূম পড়ে যায়। মেলার ধূম পড়লেও বখাটে যুবকদের কারণে মেলার পরিবেশ চরম বিঘ্নিত হয়ে উঠে। তেমনি মেলার ভীরে ভেপুবাশী বাজনার ঘটনা কেন্দ্র করে আজ সন্ধ্যায় ৪টি গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তেই সংঘাতের সৃষ্ট হয়। এই ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত ও ৮/১০ টি দোকান ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্ত ভোগীদের।

ভাঙ্গা উপজেলার মুন্সুরাবাদ ইউপি পরিষদের সামনে বৈশাখী মেলায় এই ঘটনা ঘটে।

অবশেষে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাইদুর রহমানের বিশেষ হস্তক্ষেপে বড় ধরণের সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা পায় গ্রামবাসী।

জানা গেছে, বৈশাখ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার মুন্সুরাবাদ ইউপি পরিষদের সামনে প্রতি বছর বৈশাখী মেলা বসে। এই ধারাবাহিকতা এলাকাবাসী অনেক আগের থেকেই চলে আসছিল। আজও একইভাবে মেলার হরেক রকম পসরা সাজিয়ে বসেছিল মেলা।

মাগরিব নামাজের আযানের পূর্ব মুহূর্তে বখাটে কিছু যুবক মেলা থেকে ভেপু বাশী কিনে মেলার ভীতরে বাজাতে থাকে এতে এক প্রকার শব্দদূষণের সৃষ্টির ফলে মেলায় আগত উপস্থিত অনেকের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠে। এসময় কতিপয় যুবক ভেপু বাশী বাঁজাতে নিষেধ করতেই বখাটে যুবকেরা উলটো প্রতিবাদী হয়ে উঠে। এই নিয়ে যুবকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একটি পর্যায়ে সংঘাতে তারা জড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনাটি দ্রুত অন্য সকল গ্রামের যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই তারা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রাস্তায় নেমে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার অধিক সময় ধরে চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও মুন্সুরাবাদ বাজারের দোকান ঘর ভাঙচুরের ঘটনা। এভাবেই চলতে থাকে এশার আযানের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। রাতের আধারে সংঘাত চলার ঘটনা নিয়ে এলাকার প্রতিটি পরিবারের ঘরে ঘরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সংঘাতের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে সঙ্গীয় পুলিশ ফোরস নিয়ে ছুটে আসেন ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাইদুর রহমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে ৪ রাউনড ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। পরে গ্রামবাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয় পুলিশ। ফের সংঘাতের ঘটনা না ঘটে এজন্য পুলিশ প্রহারা রাখা হয় বাজারে।

পরে এলাকার ইউপি মেম্বর, মুরুব্বী ও বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে ইউপি পরিষদে থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাইদুর রহমান একটি আলোচনার মাধ্যমে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। এভাবেই পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরণের সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা হয় মুন্সুরাবাদের ৪ গ্রামবাসী।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here