“মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সেদিন দেশে এসেছিলাম”

0
34

ডেস্ক প্রতিবেদক :: আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রেখে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় আটত্রিশ বছর আগের এই দিনটির কথা স্মরণ করে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সেদিন দেশে ফিরে এসেছিলেন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে যখন ফিরেছিলাম (১৯৮১ সালের ১৭ মে), সেদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। বিমানটি বাংলার মাটি ছুঁয়েছে, ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ এসেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এত মানুষের ঢল যে এইটুকু পথ আসতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগে গিয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সেই নির্মম ঘটনার স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে, জুলাই মাসের ৩০ তারিখে ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে আমি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। রেহানা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কলেজে গেলাম। সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম, কামাল, জামাল, রাসেল। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শুনলাম, আমাদের কেউ নেই, আমরা নিঃস্ব। আমাদের দেশেও আসতে দেওয়া হলো না। একপর্যায়ে চাচা এসে আমাদের নিয়ে যায়।

দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসব। আমি জানি না কী করব, কোথায় থাকব, কই যাব। অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি। তবু সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আসতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুই রাজনৈতিক আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতির কাজ করে যেতাম আব্বার আদর্শ নিয়ে। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন। বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। আমরা কখনো টানা দুই বছরও আব্বাকে জেলের বাইরে পাইনি। এ নিয়ে আমাদের কোনো হা-হুতাশ ছিল না। আমার মা খুব চিন্তাশীল ছিলেন, তিনি বাসাও দেখতেন, বাইরেও দেখতেন। সাংসারিক কোনো ঝামেলা তিনি আব্বাকে দিতে চাইতেন না। আমাদের দাদা-দাদী, চাচারা পারস্পরিক সহযোগিতা করতেন। কাজেই এমন একটি পরিবেশ থেকে আমরা উঠে এসেছি, যে মাথাতেই ছিল দেশের জন্য কিছু একটা করে যেতে হবে।

দেশের ফেরার পরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর থেকেই পদে পদে বাধা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারাই তখন ক্ষমতায়। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ১৯টি ক্যু হয়েছিল। এক সামরিক শাসকের মৃত্যুর পর আরেক সামরিক শাসক আসলো। আমরা আওয়ামী লীগ কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য একটার পর একটা সংগ্রাম করেই গেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক ধারা আর ব্যবস্থা ছাড়া দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময় ছাড়াও ২০০১ সালের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তা সত্ত্বেও দলকে টিকিয়ে রাখতে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি সংগঠন হিসেবে নয় এই উপমহাদেশে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতায় থেকেও আমরা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এটা কিন্তু একটা বিরাট অর্জন। তাই আমি আমার নেতাকর্মীদের কাছে এতটুকু চাইব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসটা যেন আমরা ধরে রাখতে পারি।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার রাজনীতি শুরু। কিন্তু কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, কখনো বড় পোস্ট চাইওনি। পদ তৈরি করা এবং সবাইকে পদে বসানো— এই দায়িত্বই পালন করতাম। ’৭৫-এর পর যে এত বড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে, সেটা আমি কখনো ভাবিওনি, চাইওনি। এমন দায়িত্ব নেওয়ার কথা চিন্তাতেও ছিল না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। সে সময় সামরিক শাসন চলাকালে শত বাধা উপেক্ষা করেও দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি করা হলে ওই বছরের ১৭ই মে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। ঐদিন বিকেলে ভারতের দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান শেখ হাসিনা।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here