গ্রেপ্তারি পরোয়ানা’ ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে

0
70

সংবাদদাতা :: ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার প্রাক্তন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দাখিল করা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত আগামী ১৭ জুন গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেন।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে মর্মে রোববার প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রিমা সুলতানা । এ প্রতিবেদন আমলে নিযে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গত ১৫ এপ্রিল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন অধ্যক্ষ এবং ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যান। ওই সময় ওসি নিয়মবহির্ভূতভাবে জেরা করতে করতেই অনুমতি ছাড়াই রাফির বক্তব্য ভিডিও করেন। পরবর্তীকালে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি অত্যন্ত অপমানজনক এবং আপত্তিকর ভাষায় রাফিকে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছেন। এমনকি ভিডিওর একপর্যায়ে দেখা যায়, রাফিকে বুকে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে কি না সে কথা ওসি জিজ্ঞেস করেন, যা অত্যন্ত মানহানিকর।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য গত ৬ এপ্রিল মুখোশ পরা ৪/৫ জন রাফিকে চাপ প্রয়োগ করলে রাফি মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তারা রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রাফি মারা যান।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ছাড়াই নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে মানহানি করেছেন, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বাদী মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here