গাজীপুরে বাস থেকে ফেলে পিষে হত্যা

0
58

সংবাদদাতা :: ভাড়া নিয়ে তর্কের জের ধরে এক যাত্রীকে স্বজনদের সামনেই বাস থেকে ফেলে দিয়ে চাকায় পিষ্ট করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত যাত্রীর স্ত্রীও। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

স্থানীয়রা আলম এশিয়া পরিবহনের বাসটি ধাওয়া করলে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে বাস রেখে পালিয়ে যায় বাসচালক, হেলপার ও কন্ডাক্টর। তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় বাসচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছোট ভাই জালাল উদ্দিন।

নিহত সালাউদ্দিন আহমেদ (৪৬) পুরান ঢাকার আলুবাজারের মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় স্ত্রী পারুল আক্তারসহ (৩৮) ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় পলমল গ্রুপের স্কটেক্স এ্যাপারেল কারখানার বাসচালক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী একই কারখানার অপারেটর ছিলেন।

জয়দেবপুর থানায় পারুল আক্তার জানান, চার মাস আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে সালাউদ্দিনের শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। বাপের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থেকে গতকাল সকালে আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৬৩৬৬) ফুলপুর থেকে কর্মস্থল গাজীপুরের বাঘেরবাজারে ফিরছিলেন তাঁরা।

ফুলপুর থেকে বাঘেরবাজারের ভাড়া ১৩০ টাকা। বাসটি ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ সেতুর কাছে এলে কন্ডাক্টর দুজনের ভাড়া হিসেবে ৬০০ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা হয়। কন্ডাক্টর তাঁকে হুমকি দিলে ঝামেলা হতে পারে আন্দাজ করে সালাউদ্দিন মোবাইল ফোনে ঘটনাটি তাঁর ছোট ভাই জালাল উদ্দিনকে জানিয়ে বাসস্ট্যান্ডে থাকতে বলেন।

পারুল বলেন, বাসটি বাঘেরবাজারে পৌঁছলে কন্ডাক্টর ও হেলপার সালাউদ্দিনকে লাথি মেরে নিচে রাস্তায় ফেলে দেয়। আর আমাকে নামতে না দিয়ে চালক বাসটি সামনে চালাতে থাকে। একপর্যায়ে চালক বাসটি আমার স্বামীর ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। এ সময় অন্য যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে বেশ কিছুদূর গিয়ে গতি কমিয়ে আমাকেও ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে বাসটি পালিয়ে যায়।

নিহতের ছোট ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, বাসটি বাঘেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে আসার পর দুজন যাত্রী নামে। এ সময় তিনি ভাইয়ের খোঁজে দরজার কাছে যাওয়ার আগেই তাঁর অসুস্থ ভাইকে বাস থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ভাবি ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ না নামিয়ে বাসটি সামনে এগোতে থাকলে বাস থামাতে বলি। কিন্তু বাসটি এগিয়ে যেতে থাকলে আমি ও ভাই বাসের সামনে গিয়ে ভাবিকে নামিয়ে দিতে বলি। কিন্তু চালক বাস না থামিয়ে চালাতে থাকে। আমি লাফ দিয়ে সরে আসতে পারলেও অসুস্থ বড় ভাই বাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় বিষয়টি দেখেও চালক ব্রেক না করে তাঁর ওপর দিয়ে বাস চালিয়ে দেয়। আমি ভাইয়ের হত্যাকারী খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে আলম এশিয়া পরিবহনের ঢাকা-ফুলপুর রুটের বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক, হেলপার ও কন্ডাক্টর পালিয়ে গেছে। অনেক মানুষের চোখের সামনেই সালাউদ্দিনকে বাসের চাকায় পিষ্ট করে হত্যার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। নিহত সালাউদ্দিনের স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান। চালক, হেলপার ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। চালকের লাইসেন্স এবং বাসটির ফিটনেস ছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here