ভাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

0
121

ভাঙ্গা সংবাদদাতা :: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুন্সুরাবাদ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের বাড়িতে রাতের আধারে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে । আগুনে বসতবাড়ি ঘর ভস্মীভূত ও একটি ছাগল পুড়ে গেছে। এছাড়া আগুনে পুড়ে রেশমা নামে মুক্তিযোদ্ধার ছোট মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগ ও  স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও তার পরিবার সদস্যরা রাতের বেলায় ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা মূল ঘরের সাথে সংলগ্ন ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় ঘরে ঘুমিয়ে থাকা লোকজন পেট্রোলের গন্ধ পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখেন আগুন জ্বলছে। এসময় তারা আগুন আগুন বলে চিৎকার করলে প্রতিবেশী বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভাতে থাকেন। কিন্ত ততক্ষণে আগুনে ঘরের থাকা মালামালসহ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনে মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে রেশমার শরীরের কিছু অংশ এবং একটি ছাগল পুড়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সুরাবাদ গ্রামের আজিম মিয়া ও বাদল দফাদার বিবদমান দুটি গ্রুপের মাঝে বাড়ির পাশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৭ শতাংশ জমির ভোগ দলখ কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম্য কোন্দল চলে আসছিল। সম্প্রতি গ্রাম্য শালিশে এই নিয়ে সমাধানের জন্য উভয় পক্ষে ঐক্যমত হলেও আজিম মিয়া শালিশ পক্ষের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জের ধরে গত শুক্রবার ভোরে উত্তেজিত গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। হামলার ঘটনায় আজিম মিয়াসহ তার পরিবারের দুই মহিলা সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় মুন্সুরাবাদ এলাকায় প্রভাবশালী বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে ভাঙ্গা থানায় মামলা ও পাল্টা মামলা হয়েছে। এদিকে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুনের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা এবং ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুর জব্বার জানান, আগুন দিয়ে আমাদের পরিবারকে যারা ক্ষতি করতে চেয়েছিল তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় তার পরিবার থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামচুল আলম রাসেল  বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবরটি তিনি চৌকিদার মারফত জানতে পেরেছেন। এই ধরনের ন্যক্কার ঘটনার নিন্দা জানাই এবং দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানান তিনি।

এই বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাইদুর রহমান লিড-নিউজ ২৪ ডটকম সংবাদদাতাকে মোবাইল ফোনে জানান, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। নিউজ আপডেট

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here