“তিনি ছিলেন আছেন থাকবেন”

0
102

নিউজ ডেস্ক :: সাংবাদিকতায় সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে গেছেন গোলাম সারওয়ার। সেই আলো পথ দেখাবে আগামীকে। সাংবাদিকতা প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে পেশাগত উৎকর্ষতায় সমৃদ্ধ হবে। সৃষ্টিশীল মানুষ মরেন না, সৃষ্টিকর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকেন। গোলাম সারওয়ার ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নাগরিক স্মরণসভায় এসব কথা বলেছেন বিশিষ্টজন। স্মরণসভার শুরুতেই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ার গত বছরের ১৩ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্মরণসভায় গোলাম সারওয়ারকে নিয়ে নানা স্মৃতি ও তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বরেণ্য মানুষ।

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বাতিঘর গোলাম সারওয়ার পরিণত বয়সেই চলে গেছেন। কিন্তু তার এই চলে যাওয়া আরও পরে হলে তার ছোঁয়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিকতার আলোকিত যাত্রাপথটি আরও দীর্ঘ হতো। তিনি নেই, কিন্তু এখনও তার সহযাত্রী হয়ে, তার দেখানো পথেই চলছে সমকাল। সে পথেই চলবে।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, গোলাম সারওয়ার পাঁচশ’র বেশি সাংবাদিক নিজের হাতে তৈরি করে গেছেন। তারা এখন বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার সব ক্ষেত্রেই গোলাম সারওয়ার এখনও সজীব রয়েছেন। তার মৃত্যু নেই।

স্মরণসভায় বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাগরণ সম্পাদক আবেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া,

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সমকাল প্রকাশক ও এফবিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নাট্যজন আতাউর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি কামাল চৌধুরী, তথ্য সচিব আব্দুল মালেক,

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, অভিনেতা আজিজুল হাকিম ও এসিআইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর। সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএস আমিন উদ্দিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান শাহরিয়ার, আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক কবীর আহমেদ খান, বিটিভির পরিচালক (বার্তা) কবি নাসির আহমেদ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক জাহাঙ্গীর খান, কথাসাহিত্যিক মুজতবা আহমেদ মোরশেদ, কবি মাহমুদ হাফিজ, অভীক সানোয়ার রহমান, লেখক হাবিব আনিসুর রহমান ও নাসিমা আনিস।

অনুষ্ঠানে গোলাম সারওয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তার সহোদর গোলাম হায়দার, জামাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিয়া নাইম হাবিব এবং ভাগ্নে শামীম হাসান।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, গোলাম সারওয়ারের মতো একজন ছাত্র পেয়ে তিনি শিক্ষক হিসেবে গর্বিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক ষাটের দশকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৬৩ সালে বাংলা বিভাগ বাংলা ভাষা, সাহিত্যের হাজার বছরের উৎসব পালন করে। সে সময়ে যে ক’জন ছাত্র এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদের অন্যতম গোলাম সারওয়ার। সারওয়ার নেই তা মনে হয় না। সে ছিল, আছে, থাকবে। কারণ, গোলাম সারওয়ার একজন মানুষ।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গোলাম সারওয়ার যত বড় মানের সাংবাদিক ছিলেন, তার চেয়েও বড় মাপের মানুষ ছিলেন। তিনি আজীবন লড়াকু ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। রাজনীতিকদের প্রশংসা করতেন, আবার কড়া সমালোচকও ছিলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গোলাম সারওয়ার উঁচু মাপের একজন মানুষ ছিলেন। তার দেখানো পথে দেশের সাংবাদিকতা আগামীতে প্রতিটি ক্রান্তিকাল পেরিয়ে স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কোনো ক্রান্তিকালই যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয় তারও প্রত্যাশা করেন তিনি।

মাহফুজ আনাম বলেন, গোলাম সারওয়ারের প্রতি সম্মান জানানোর একটিই উপায়, তা হচ্ছে স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রসার, সাংবাদিকতার মূল্যবোধ ও স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করা এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্য কথা বলা। তিনি বলেন, গোলাম সারওয়ারের অনুপ্রেরণাতেই সম্পাদক পরিষদ প্রতিষ্ঠা হয়, তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

আবেদ খান বলেন, গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে তিনি একসঙ্গে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। তাদের অনেক স্মৃতি। এখন সাংবাদিকতা স্থবির হয়ে যাচ্ছে, প্রচণ্ড ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গোলাম সারওয়ারকে অনুসরণ করে তা যদি সার্বিকভাবে ক্যামেরা এবং ভাষায় প্রয়োগ করা যায়, তাহলেই কেবল এই ক্ষয়রোধ সম্ভব।

অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কৌশল এমন একটি শিল্প, আপনি কাজ করবেন কিন্তু শত্রু তৈরি হবে না’- এই আদর্শের সার্থক মানুষ ছিলেন গোলাম সারওয়ার। তিনি কাজ করেছেন সারাজীবন, কিন্তু কারও বিরাগভাজন হননি। তিনি শুধু সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতায় যেমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনি শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রচেষ্টায় তার এলাকায় স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার দেখানো পথ নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করবে।

দিলীপ বড়ূয়া বলেন, চিন্তাশীল ও সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন গোলাম সারওয়ার। যা বিশ্বাস করতেন, তা অনুসরণ করতেন।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গভীরভাবে ধারণ করতেন এবং এ চেতনায় দেশ গড়ায় তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ভালো সাংবাদিকের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। দু’দিক দিয়েই তিনি অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, গোলাম সারওয়ারের তুলনা হয় না। তিনি হৃদয়ের মানুষ, আত্মার চেয়েও নিকটতম মানুষ। তিনি রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন। সংবাদপত্রে কৌশলী রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে তার তুলনা তিনিই। তিনি বিরোধী মতের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সমাজ থেকে যখন সত্য গুম হয়ে যায়, মানবিক মূল্যবোধ যখন উধাও হয়ে যায়, তখন গোলাম সারওয়ারের মতো একজন উঁচু মাপের সাংবাদিক খুবই প্রয়োজন।

সমকাল প্রকাশক এ. কে. আজাদ বলেন, আপাদমস্তক পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন গোলাম সারওয়ার। সবচেয়ে কঠিন পেশা সাংবাদিকতা করেছেন সাহসের সঙ্গে। কোনো সংবাদ কারও পক্ষে গেলে, তা তার প্রাপ্য মনে করেন। কিন্তু বিপক্ষে গেলে যেভাবে পারে সংবাদপত্রের মালিককে দেখে নিতে চান। গোলাম সারওয়ার সংবাদ প্রকাশে আপস করতেন না। তিনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা বেঁচে থাকুক। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের মধ্যে এই আদর্শের অভাব রয়েছে। আপস করতে করতে সাংবাদিকতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, মানুষ আর পত্রিকা পড়তে চায় না।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, গোলাম সারওয়ার যখন ইত্তেফাকে ছিলেন, তখন ইত্তেফাক পড়তাম। এরপর তিনি যুগান্তরে গেলে, যুগান্তর পড়তে শুরু করি। সমকাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমকাল পড়তে শুরু করলাম। এর অর্থ গোলাম সারওয়ার যেখানে যেতেন, তার সঙ্গে সেখানে পাঠকরাও যেতেন।

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সংবাদ প্রকাশ, উপস্থাপন এবং সৃজনশীল শিরোনাম দেওয়ার ক্ষেত্রে গোলাম সারওয়ার ছিলেন অনন্য। তিনি ভালো মানুষ, ভালো শিক্ষক এবং ভালো সাংবাদিক ছিলেন।

আতাউর রহমান প্রিয় বন্ধু গোলাম সারওয়ারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বরচিত কবিতা পড়ে শোনান।

মামুনুর রশীদ বলেন, আজকে সাংবাদিকতায় এক ধরনের শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। গোলাম সারওয়ার থাকলে হয়তো এই শূন্যতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হতো।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, গোলাম সারওয়ার ছিলেন নির্ভীক, নিরপেক্ষ এবং গণতন্ত্র ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তিনি মাথা থেকে পা পর্যন্ত বাঙালি ছিলেন এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গোলাম সারওয়ার তার অভিভাবক ছিলেন। তার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন, যে অন্তরে ঘৃণা লালন করে, তার দহন হয় বেশি।

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, প্রয়াত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক যখন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তখন গোলাম সারওয়ার পাশে ছিলেন, সাহস জোগাতেন। গোলাম সারওয়ারের সাহস ছিল। সেই সাহস নিয়ে সাংবাদিকতা করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গোলাম সারওয়ারের নামে পদক প্রবর্তনের অনুরোধ জানান তিনি।

কবি কামাল চৌধুরী বলেন, গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। একইসঙ্গে তার সম্পাদিত পত্রিকায় সাহিত্য, ফিচারসহ অন্য ক্ষেত্রগুলোও অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। বহুমুখী প্রতিভায় তিনি এগিয়ে নিয়ে গেছেন দেশের সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতাকে।

অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, সাংবাদিকতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দায়িত্বশীলতার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন গোলাম সারওয়ার। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, থাকবেন।

আবদুল মালেক বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পিআইবির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গোলাম সারওয়ার। সেই সুবাদে গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সখ্য। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার সুবিশাল ব্যক্তিত্বের স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছি।

অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, গোলাম সারওয়ার ছিলেন সজ্জন মানুষ। বাইরে কাদার মতো নরম। কিন্তু ভেতরটা দৃঢ় কঠিন। নত হতেন না।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, গোলাম সারওয়ার ছিলেন সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক। তিনি ছোট-বড় সবার প্রতি সম্মান দেখাতেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশ-সাংবাদিকের সম্পর্ক অম্ল-মধুর। কখনও কখনও সংকট সৃষ্টি হয়। সংকটে অভিভাবকতুল্য গোলাম সারওয়ারের সাহায্য নিতেন তিনি। গোলাম সারওয়ার পুলিশ-সাংবাদিক উভয়পক্ষের জন্য সম্মানজনক সমাধান দিতেন।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, তিনি যথার্থ অর্থে সম্পাদকের পাশাপাশি সাংবাদিকতার শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন। সাংবাদিকতার সংকট, উৎকর্ষতার কথা সবকিছুতেই মনে পড়ে সারওয়ার ভাইয়ের কথা।

সাইফুল আলম বলেন, জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবনকে তৈরি করা মানুষ গোলাম সারওয়ার। গণমাধ্যমে যে ক্ষয়িষ্ণুতা সৃষ্টি হয়েছে তা রোধে গোলাম সারওয়ারের আদর্শের বিকল্প নেই। গণমাধ্যমকে গণমানুষের মুখপাত্রে পরিণত করতে গোলাম সারওয়ারের আদর্শকে ধারণ করতে হবে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গোলাম সারওয়ার সাংবাদিকতার বাতিঘর ছিলেন। তার আলোয় পথ চলতে হবে। নিউজ দৈনিক সমকাল

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here