বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম তালুকদারের দাফন সম্পন্ন

0
51

সংবাদদাতা :: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল করিম তালুকদার এর দাফন রাস্ট্রীয় মর্যাদায় রবিবার বেলা ১১ টায় সম্পন্ন হয়েছে।

বর্ষীয়ান এই আওয়ামীলীগ নেতার জানাজায় জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও আওয়ামীলীগ সংসদীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক নূর-ই আলম চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নের্তৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন। এসময় চীফ হুইপসহ নের্তৃবৃন্দ আবেগ আপ্লুত হয়ে এই বর্ষীয়ান নেতার স্মৃতি চারন করেন। এসময় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী, চীফ হইপ লিটন চৌধুরীর ছোট ভাই ফিরোজ কবির চৌধুরী লিখন,

নাসিরউদ্দিন চৌধুরী রিপন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিয়াজউদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ-দে, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব হাসান, ইয়াদ,শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন খান, রাজৈর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ মোতালেব মিয়া,

কালকিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, মাদারীপুর পৌর মেয়র খালিদ হোসেন, রাজৈরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান খান, শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সেলিম, পৌরসভা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তোতা খান প্রমুখ শোক প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মরহুমের জানাজা শেষে দ্বিতীয়াখন্ড পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনে চীফ হুইপ লিটন চৌধুরীসহ নের্তৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করে শোকার্ত পরিবারকে শান্তনা দেন। তার জানাজার নামাজে ইমামতি করেন হাজি শরীয়াতুল্লার বংশধর বাহাদুরপুর পীর মঞ্জিলের মদিনশীন পীর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান।

জানা যায়, আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম তালুকদার ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৫.২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । তার মৃত্যুতে ওই দিনই শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ ও আওয়ামীলীগ সংসদীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেন্ । এছাড়াও কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

রবিবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারন করেন। সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত ২ ঘন্টা বাজারের বিভিন্ন দোকান বন্ধ রাখে বনিক সমিতি। হাতির বাগান মাঠে তার খাটিয়ায় চীফ হইপ নূর-ই আলম চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করেন। এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান নিক্সন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ, মাদারীপুর পৌরসভা, শিবচর পৌরসভা, শিবচর উপজেলা আওয়ামীলীগ, শিবচর প্রেসক্লাব,

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় তার ছেলে দ্বিতীয়াখন্ড ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাসুম তালুকদার তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।

বেলা ১১ টায় শিবচর হাতির বাগান মাঠ প্রাঙ্গনে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে দ্বিতীয়াখন্ড ইউনিয়নে মরহুমের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার বিকেলে ঢাকাস্থ ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মরহুম আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল করিম তালুকদার ১৯৭৩ সাল থেকে শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়ন পরিষদের ছয়বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও শিবচর উপজেলা পরিষদের দুইবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিবচর ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। । তিনি বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য । মৃতুকালে তিনি স্ত্রী, ২ছেলে, একমেয়ে, নাতী-নাতনী সহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম রেজাউল করিম তালুকদার ছিলেন আওয়ামী লীগের দূর্দিনের কান্ডারী। সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর একান্ত বিশ্বস্থ সহচর। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সকল লোভ-লালসাকে উপেক্ষা করে দলের এবং দলের কর্মীদের জন্য নিবেদিত প্রাণ একজন নেতা হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে দলের ক্রান্তিকালে তিনি শিবচরে আওয়ামী লীগের হয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান । পরবর্তীতে খুনি মোস্তাক ও সামরিক শাসক জিয়া-এরশাদের শাসনামলে তিঁনিই ছিলেন শিবচরে দলের নেতৃত্ব দানকারী কর্মী বান্দব নেতা। এমনকি এরশাদের শাসনামলে শিবচরের একমাত্র নির্বাচিত জন-প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান ছিলেন।

চীফ হুইপ ও আওয়ামীলীগ সংসদীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, আমি যখন তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম তখন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খবরটি জানালাম। প্রধানমন্ত্রী বললেন তোমাকে আমি তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। তার মৃত্যুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও শোক প্রকাশ করেন। শিবচরের রাজনীতি, উন্নয়ন, আমার রাজনৈতিক ও পারিবারিক জীবনে তার অবদান আছে। তার কোন বিকল্প নেই। তার ভালবাসায় তার হাতেই আমার রাজনীতি শেখা। আমরা তার পরিবারের পাশে আছি।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here