“অশ্রু সিক্ত নয়ন জলে একজন হিমাদ্রীর বদলীজনিত বিদায়ক্ষন”

0
117

মামুনুর রশিদ :: কর্মস্থলের নতুন জায়গায় যোগদান আনন্দের। কিন্তু চলে যাওয়া কর্মস্থল হতে অন্যত্র বদলীজনিত বিদায়ক্ষনটি বহুগুণ কষ্টের। তারপরেও যেতে হয়। যেতে হবে। কারন সরকারী চাকুরী, বদলী হতেই হয়।

কিন্ত একজন সৎ ও সততার নির্ভীক কর্মকর্তার বিদায়ক্ষণ জনগণের পাশাপাশি তার সহকর্মীদের মনকে যেমন ব্যথিত করে তেমনি সিক্ত ভালবাসায় অভিভূত ওই কর্মকর্তা নিজেও মায়ার বাঁধনে ধন্য হয়ে সকলের প্রতি শ্রদ্ধাভরেও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন! কারন বিদায়ের বেদনা বড়ই বেদনা দেয় একটি বিদায়ের ক্ষণে।

সোমবার এমনই একটি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদ সেমিনার হল রুমে। দিনের মধ্যোন্য ভাগে ভাঙ্গা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সদস্যরা সমন্বিতভাবে তাদের সহকর্মী ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসার “বদলীজনিত বিদায়ক্ষন” অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান আল হাবিব। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতা দিরুল আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, মৎস্য কর্মকর্তা দেবলা চক্রবর্তী, কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন শিকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিয়াদ জামশেদ আহমেদ, উপজেলা ইন্সট্র্যাক্টর অনিতা দত্ত, প্রকল্প ও বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মানস বোস।

সংবাদকর্মী হিসাবে আমি আমরা অনেকেই উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের নিউজ প্রায় কাভার করে থাকি। সেই সুবাদে হিমাদ্রী খীসার “বদলীজনিত বিদায়ক্ষন” অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ভাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খীসা ৭ মাস দায়িত্ব পালন করেন ভাঙ্গায়। দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালনে অগ্রবর্তীর ফলে সকলের কাছে তিনি গ্রহনযোগ্য একজন সৎ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচতি লাভ করেন।

বিশেষত তার নিজের করমস্থল ভূমি অফিস স্টাফদের সততার সাথে কাজ সম্পাদন ও কাজের সেবা নিতে এসে যেন জনগণ হয়রানীর শিকার না হন এবং অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক জারী ছিল তার অন্য দৃষ্টান্ত। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে তার উচ্ছেদ অভিযান এবং খাল-বিল-নদি-নালা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ছিল জিরো টলারেন্স। ভ্রাম্যান আদলত পরিচালনাকালে ড্রেজার মেশিন আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত এবং জেলা ও জরিমানা, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং কারীদের কাছে তিনি ছিলেন মূর্তিমান এক আতঙ্ক।

আবার অফিসে যে কোন বয়সের মানুষ কাজের জন্য তার কক্ষে আসলে তাকে সম্মান জানিয়ে বিস্তারিত শুনার পরে ব্যবস্থা গ্রহণে তার জুড়ি মেলা ভার এমন মন্তব্য উপকারভোগীদের। শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সাহায্যে ছিলেন তিনি অগ্রবর্তী। তার প্রসঙ্গে যে সকল বক্তারা যতবার বলেছেন, তারা সবাই মনের গহীনে নিভৃত স্মৃতিচারণ করেছেন একজন হিমাদ্রীর বদলীজনিত বিদায়ক্ষণে তাকে নিয়ে। এককথায় যেহেতু “বদলীজনিত বিদায়ক্ষন” সেহেতু অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল অনুভূতি পূর্ণ আবেগ আপ্লূত স্মৃতিচারণ।

সবার শেষে তিনি যখন বলতে গেলেন, গলাটা ভীষণ কাপছিল তার। সকলের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার অটুট বাক্যে শ্রবণের পরে কিছু বলতে গিয়ে মায়ার বাধনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে দৃশ্যপট পাল্টে গিয়েছিল সেমিনার কক্ষের। নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। তার চোখের জলের ছোঁয়ায় অন্যে সবার চোখেও জল এনে দেয়। অবশেষে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা কর্মচারী পরিষদ থেকে সম্মাননা জানিয়ে বিদায় জানানো হয় “অশ্রু সিক্ত নয়ন জলে একজন হিমাদ্রীর বদলীজনিত বিদায়ক্ষন” যেখানেই তিনি যাবেন সেখানেই সৎ ও সতার বীজ বপন করে একদিন কাঙ্ক্ষিত লক্ষেও পৌছাতে পারবেন আপনার প্রতি আমাদের সেই প্রত্যাশা রইল।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here