ভাঙ্গায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ের অভিশাভ থেকে কিশোরীর মুক্তি’ বর গেল শ্রী ঘরে

0
220

ভাঙ্গা সংবাদদাতা :: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক কিশোরী মুক্তি পেল বাল্যবিয়ের অভিশাভ থেকে। অভিযুক্ত বর রাহেন বেপারী (২৩) কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বরকে পাঠানো হয়েছে শ্রী ঘরে!

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুন্সুরাবাদ গ্রামে।

উপজেলা প্রশাসন ও একাধীক গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ভাঙ্গা উপজেলার পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রামের সানু বেপারীর ছেলে মোঃ রাহেন বেপারীর সাথে মুন্সুরাবাদ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া (১৪ বছর) কন্যার বিয়ের দিন ধার্য্য করার পাশাপাশি মেয়ের বয়স কম হওয়ায় কৌশলী দুটি পরিবার রাতের বেলায় বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। উপহার সামগ্রী হাতে একে একে আসছিল নিমন্ত্রিত অতিথিরা। বর পক্ষের লোকজনও গাড়ি বহর নিয়ে কনের বাড়িতে অবস্থান করায় বিয়ে বাড়ির চারিদেকে বেশ ধুমধাম চলছে। কিন্ত বিধিবাম!

১৪ বছর বয়সের কিশোরীর বিয়ে হচ্ছে! এমন খবর পৌঁছে যায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। খবরের সত্যতা গোপনে অনুসন্ধান করে উপজেলা প্রশাসন। সত্যতা পাওয়ায় কনের বাড়িতে ছুটে আসেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকতা দিরুল আহমেদসহ সঙ্গীয় প্রতিনিধিরা। ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি থেকে বরের আলোক সজ্জিত কুড়ে ঘর থেকে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে বাল্য বিয়ের অপরাধে অভিযুক্ত বর রাহেন বেপারীকে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ (ক) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত।

একই সাথে গ্রামের একজন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধার জিম্মায় রেখে মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুচেলেকা নেওয়া হয় প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তিনি মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না এবং তাকে পড়ালেখার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং মুন্সুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেয়েটির সুশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সুত্রমতে , কিশোরী কন্যাটির বিয়ের জন্য ফরিদপুর পৌরসভার মাধ্যেমে ভুয়া একটি জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করার পাশাপাশি এভিডেভিটের করে তার বয়স ১৮ দেখিয়ে বিয়ের কাজে সকল চেষ্টাও চালিয়েছিল দুটি পরিবার।

ভাঙ্গা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকতাদিরুল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি জানান, মুন্সুরাবাদ গ্রামে একজন কিশোরীকে বাল্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন খবরের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক কনের বাড়িতে হাজির তারা হাজির হন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর বর তার নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং বাল্য বিয়ের নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭(১) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। তিনি আরও বলেন, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স বিদ্যামান হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here