নাক কাটা যাত্রা থেকে রক্ষা——–

0
80

মামুনুর রশিদ :: এফবিতে আমার লেখাটা ছিল “একজন সাংবাদিক বললেন—-ভাঙ্গায় সাংবাদিকদের সংগঠনের নামে সাংবাদিক সম্মেলন হলেও জানতে পারছেন না সেই সংগঠনের অন্য কেউ!

এফবিতে পোস্ট দেওয়ার পর প্রশ্নবিদ্ধ তিন সংবাদকর্মী তাদের সংগঠনের সদস্যদের তোপের মুখে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিস্তার লাভ করেছে বলে জানা গেছে। তবে নাক কাটা যাত্রা থেকে রক্ষা হওয়ায় তারা চটেছেন এফবির কমেন্টসকারী এবং পোস্ট দাতার উপরে। তাদের থলের বিড়াল ম্যাউ ম্যাউ করে বের করায় সকল সাংবাদিকদের কাছে চেহারা উম্মেচন হয়ে পড়েছে। যদিও তাদের প্রধান পরিচালনাকারীই গোয়াল প্রধান। তিনি নিজেও এরূপ ধান্দা ফিকিরই পছন্দ করে থাকেন।

সূত্র থেকে পাওয়া, অসহায় একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার সুত্রতায় আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিপক্ষের লোকজনকে একজন টেলিভিশন ও একটি পত্রিকার সংবাদকর্মী মিলে ওই পরিবারের সদস্যদের দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অফিস ঘরে বসিয়ে ব্যানারসহ সংবাদ সম্মেলন ছবি করে পরে নিজেদের অংশের সাংবাদিক সংগঠনের নামে এফবিতে পোস্ট করে দেয়।

ঘটনাটি স্থানীয় অন্যান্যে সংবাদকর্মীদের দৃষ্টিতে আসতেই ভাঙ্গার সাংবাদিক সুধী মহলের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এফবিতে দেখা যায় ছবির পক্ষে বিপক্ষে নিয়ে রিতিমত চলে কমেন্ট যুদ্ধ। খোদ সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতকারী দুই সংবাদকর্মীদের সাথে জড়িত সাংবাদিকদের অনেকেই নাখোশ হয়ে উঠেন।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনেকেই জানান, সংগঠনের নামে একটি সংবাদ সম্মেলন করতে অন্যান্যে সাংবাদিকদেরও জানাতে হয়। চুপিসারে দুজন সংবাদকর্মী দিয়ে করার অর্থ হচ্ছে এর পিছনে কোন রহস্য লুকিয়ে থাকা!

প্রাথমিকভাবে টেলিভিশন সংবাদকর্মীসহ তার সাথী দুজনের কেউই নিজেদের পরিচালিত সংগঠনের কাউকে না জানিয়ে গোপনে সংবাদ সম্মেলনটি সমাপ্তি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় সফল হলেও সাংবাদিকতার পরিপন্থী হয়েছে বলে অভিমত সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক মহলের।

ঘটনার সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, টেলিভিশন সংবাদকর্মীসহ তার সাথী দুজনে তাদের অংশের ধান্দাবাজ প্রধানের কাছে মৃদু জবাবদিহিতা করার পাশাপাশি ছুলাই মুরগীকে আকাশ পাতাল করে সাজানো গল্পের ফাঁকে অর্জিত অর্থের কিছু অংশ হস্তে দিয়ে চলমান যাত্রায় নিজেদের সম্মান রক্ষা হয়েছে। ঘটনার রাতেই কাজটি করতে হয়েছে তাদের।

প্রতিষ্ঠানের কুকীর্তি আড়াল করতে সাংবাদিক হওয়ার হিরিক!

সাংবাদিক পেশা একটি মহান পেশা। দেশ ও জাতির কাছে এই পেশার মর্যাদা অটুট থাকলেও আজকাল অনেকেই সাংবাদিকতায় আসছেন নিজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা আদায়ের নিমিত্তে।

সচেতন মহলের মতে, বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করতে গেলে আইনের ঝুঁকি ঝামেলা পোহাবার বেলায় যাতে সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে কিছুটা বাড়তি কদর পাওয়া যায় সেই লক্ষে সৃষ্টি হচ্ছে অপেশাদার সাংবাদিক।

শুধু কি তাই?

এলাকা ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকেই সাংবাদিক বনে আজকাল পাড়ি জমাচ্ছেন। এভাবে নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাংবাদিক পরিচয়ে হরহামেশে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কেউ কেউ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় ভাঙ্গায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থেকে শুরু করে তাদের কর্মচারীরা সাংবাদিক বনে যাওয়ার হিড়িকে হতবিম্ব হয়ে উঠেছেন ভাঙ্গার সচেতন মহল। খোদ উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সাংবাদিকের অফিস বা প্রতিষ্ঠান জানার পরে চোখ অন্যত্র ফেরাতে হচ্ছে তাদেরকে ক্ষেত্র বিশেষ।

অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অভিমত, ভাঙ্গায় আজকাল অনেকেই পকেটে সাংবাদিকতার কার্ড রেখে চলেন। কিন্তু তাদের পত্রিকার নাম থাকলেও সেই পত্রিকায় কোনদিন ভাঙ্গার কোন সংবাদ ছাপা হয়েছে বলে এমন দৃষ্টান্ত সহসায় খুঁজে পাওয়া না গেলেও তাদের গাড়ির সামনে ঠিকই প্রেস বা সাংবাদিক লেখা ঝুলছে। সাধারণ মানুষ জানে না এর প্রতিকার কি? শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি না থাকলেও সর্বক্ষেত্রে দাপট ঊর্ধ্বমুখী। কারন তারা আমরা সাংবাদিক।

বিশেষ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাঙ্গায় চায়ের দোকানদার, হেল্পার, ঠিকাদার, ক্লিনিক কর্মচারী থেকে শুরু করে সাংবাদিক হওয়ার হিড়িক চলছে ভাঙ্গায়। শুধু মাত্র কার্ডধারী সাংবাদিক পরিচয়ে নিয়ে সকল জায়গায় টপ গ্রেডে দাপিয়ে বেড়ানো এবং তাদের সংগঠনের প্রধানদের সাথে থেকে ধান্দা ফিকির করে ও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের গোপন রহস্য আড়াল করা। পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য অফিস আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা রপ্ত করা।

যে কারনে পেশাদার সাংবাদিকদের সম্মানহানির পাশাপাশি সাংবাদিকতার মহান পেশা আজকাল ম্লান হচ্ছে।

পেশাদার সাংবাদিক নিজের গণ্ডির কথা ভেবে নিজের বিষয়ে সচেষ্ট রাখলেও অপেশাদারীরা মর্যাদা না বুঝেই যেমন খুশী তেমন করে নিজেকে পরিচালনা করছে। ফলে সাংবাদিকতার পেশা দিন দিনে কলুষিত হচ্ছে বলে অভিমত সচেতন মহলের।

অভিযোগ, কয়েকজন সংবাদকর্মী নিজস্ব পত্রিকা বা চ্যানেলের অফিস হাঁকিয়ে টাঁকার বিনিময়ে এলাকা ভিত্তিক ব্যক্তি বা ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের সাংবাদিক তৈরির করছেন। এযেন অলিখিতভাবে সাংবাদিক বানানোর কারখানা তারা লীজ নিয়েছেন অঞ্চল ভিত্তিক সংবাদকর্মী বৃদ্ধি করা। তারপর নিজের ইচ্ছে মত ওই অপেশাদার সংবাদকর্মী নিয়ে নিজাদের মত সাংবাদিক সংগঠন নামে ধান্দা ফিকির।

জলন্ত উদাহরণ ভাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ফাঁসাতে তার প্রতিপক্ষের পরিবারকে নিয়ে সংগঠনের নামে ব্যক্তিগত অফিসে চুপচাপ সংবাদ সম্মেলন।

জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলা সদরের পাশের একটি ইউনিয়নের কোন এক ব্যক্তির সাথে তার গ্রামের লোকজনের সংঘাত সৃষ্ট হওয়ার পর থেকে তিনি একদিন সাংবাদিক বনে পাড়ি জমায়। সাংবাদিক হওয়ার পর থেকে গ্রামের লোকজনকে বিভিন্ন সময়ে হেস্তনেস্ত করে আসছেন। গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ করতেই তিনি বলেন সাংবাদিক বলে বাড়তি সুবিধা নিয়ে থাকেন প্রশাসনের কাছ থেকে!

উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলায় কয়েক হাত বাড়ালেই একই নামে আরেকটি করে সাংবাদিক সংগঠন। রাজনৈতিক মতাদর্শ, অঞ্চল ভিত্তিক, জামায়াত-বিএনপি সাংবাদিক পন্থী সমন্বয়, হলুদ সাংবাদিকতা, এলাকা ভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদকর্মীর বানিয়ে নিজেকে সমন্বয় ঐক্য ধারায় চলছে স্থানীয় সাংবাদিকতা।

শুধু কি তাই? একই নামে সংগঠনগুলো চলছে শুধু কাগজে-কলমে।

শুধু ভাঙ্গা অনলাইন প্রেসক্লাব নামে একটি সুসংগঠিত প্রেসক্লাব রয়েছে যারা এক এবং অভিন্ন। তারা নিজেদের মত করে তাদের সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। তাদের প্রেসক্লাবের কোন শাখা প্রশাখা বা একেক জনের একেকটি ভিন্ন ক্লাব নেই। সিনিয়র দুজন সাংবাদিকের হাত দিয়ে একক নেতৃত্বে তারা এগিয়ে চলেছেন।

হাত বাড়ালে সাংবাদিক ক্লাবের উল্লেখিত কারনে উপজেলার সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরগুলো জাতীয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র দিতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়। কারন তারা কেউ জানে না—মুল অফিস কোথায় এবং কয়টি? এরফলে বেশীর ভাগ সময়ে ব্যক্তিগত ভাবে তারা পরিচিত সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র দিয়ে থাকেন।

সচেতন মহলের দাবী, ভাঙ্গায় সাংবাদিকতার আড়ালে ব্যক্তিগত অফিসে কিসের চর্চা হচ্ছে, হ্লুদ সাংবাদিকতার সাথে জড়িত যারা তাদের বিষয়ে ডিজিএফআই, এনএসআই, গোয়েন্দা পুলিশ, স্থানীয় পুলিশ, এবং প্রশাসনের বিশেষ নজরদারী হওয়া দরকার।

কোন তদারকি যদি না থাকে এসব কারনে পেশাদার সাংবাদিকদের সুনাম যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি সাংবাদিকতার মহান পেশা দিন দিনে হুমকির মুখে গড়িয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ কথিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে বার বার শিকার হবেন প্রতারনার। আপডেট

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here