সুস্থ সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণমূলক: টিআইবি

0
202

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের জন্য প্রায় ৫০টি আইন ও নীতিমালা রয়েছে। যার প্রায় প্রতিটি সুস্থ সাংবাদিকতা বিকাশে কিছু কিছু সুযোগ সৃষ্টি করলেও অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণমূলক।

সংস্থাটি জানায়, আইনগত বাধার পাশাপাশি বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অন্যতম বাঁধা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি। এছাড়া, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দের সমালোচনা সইবার সৎ সাহসের অভাবও রয়েছে।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ‘তথ্য অধিকার , মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভায় টিআইবি’র প্রতিবেদন এমন তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির গবেষক মাসুম বিল্লাহ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

টিআইবির প্রতিবেদন বলছে, একটি কার্যকর গণমাধ্যম এবং জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল পার্থক্যই গড়ে দেয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা।কারণ সুশাসনের ঘাটতি, সীমাবদ্ধতা, শুদ্ধাচারের ব্যত্য় এবং দুর্নীতির তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশের মাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন মূলত সরকারের অধিকতর কার্যকারিতা, নৈতিক আচরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তথা স্বাধীন গণমাধ্যম সবচাইতে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি। এজন্য একে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে বরং সুশাসনের ঘাটতি চিহ্নিত করে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সংস্থাটি মনে করে, গণমাধ্যমকে জরুরি সেবাখাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবাদকর্মীদের নিয়মিত বেতনভাতা ও প্রনোদণা নিশ্চিতের জন্য রপ্তানীমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ঘোষিত স্বল্প হারে ঋণ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি পেশাদারি মনোভাব নিয়ে গণমাধ্যম মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো), সম্পাদক পরিষদ, এডিটরস গিল্ড এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, গবেষক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী বলেন, করোনাকালীন সময়ে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ও আরো অনুসন্ধানী হওয়া উচিত ছিল। শুধুমাত্র সরকারের ত্রুটি খুঁজে বের করারই একমাত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। তাই বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের নিজেদের অধিক দায়িত্ববান হওয়ার প্রতি জোড় দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড . ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতিআরা নাসরীন এবং বৈশাখী টেলিভিশনের প্লানিং কনসালটেন্ট জুলফিকার আলি মাণিক অলোচনায় অংশ নেন।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here