ভাঙ্গায় দুপক্ষের সংঘাতে বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট আহত অর্ধ শতাধীক

0
1528

লিড-নিউজ দক্ষিণাঞ্চল :: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে বিবদ দুটি পক্ষের সংঘাতে বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটতরাজের ঘটনায় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ দুপুরে ভাঙ্গার গজারিয়া গ্রামের গজারিয়ায় ইমদাদুল হক বাচ্চু কমিশনার ও রাজ্জাক ফকিরের সমর্থকের মাঝে দফায় দফায় সংঘাত চলাকালে ৩০ থেকে ৪০টি ঘর ভাংচুর, ঘরের মালামাল লুটতরাজ পাশাপাশি নারী শিশুসহ কমপক্ষে অর্ধ শতাধীক লোকজন আহত হয়েছে।

খবর পেয়ে ভাঙা থানার ওসির শফিকুর রহমানের নির্দেশে এসআই আব্দুল আজিজ, পীযূষ কান্তি ,আসাদুজ্জামান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা ঘটনা স্থলে দ্রুত পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেও বিক্ষুব্দ গ্রামের শত শত জনতা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে দফায় দফায় সংঘাতে মেতে উঠে। অবেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ দুটি পক্ষের বেশ কয়েকজন দাঙ্গাবাজকে তাতক্ষনিকভাবে আটক এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করার পর গোটা পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে,গজারিয়া গ্রামে গত দুদিন আগে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র কথে।উল্লেখিত এই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলার সূত্রতায় আদালত থেকে জামিন আসে বাচ্চু কমিশনারের লোকজন। জামিনে আসার পর তারা রাজ্জাক ফকিরের সমর্থকের সাথে আজ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় রাজ্জাক ফকিরের বাড়িসহ তাঁর সমর্থকের ঘর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে করা হয় বলে অভিযোগ করেন রাজ্জাক পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে প্রতিবাদে রাজ্জাক ফকিরের গ্রাম্য দলের অনেকেই এগিয়ে আসলে দুপক্ষের লোকজন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কইতরি বেগম, হামিদা বেগম, কলসুম বেগম, আশা আক্তারি, পারুলী বেগম, খালেদা বেগম, ফাতেমা বেগম, দেলোয়ার ফকির, কালাম ব্যাপারী, রাসেল শেখ, সোহেল ফকির, বুলবুল ফকির, জোস্না বেগম, রিক্তা আক্তারি, জামাত আলী, জাকির হোসেন, রাসেল মাতুব্বর, মামুন শেখ, নাজমুল শিকদার, পলাশ মাতুব্বর, বাবুল মাতুব্বর, রাজিব ব্যাপারী, আওব আলী, আপন ব্যাপারী, অবায়দুল ইসলাম আহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়ি ঘর ভাংচুর করা হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙা থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম জনান, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুটি গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিবিধ বিষয় নিয়ে কোন্দল চলে আসছে। আজ ফের আবার সংঘাতের খবর পাওয়া মাত্র ভাঙা থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের কাছে অভিযোগ আসলে অবশ্যই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংঘাতের সময় রাজ্জাক ফকির পরিবারের থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ শান্তি রক্ষার জন্য কাজ করে। এতে কেউ যদি মনে করে পুলিশ আমাদের পাশে ছিল না এধরনের বক্তব্য সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত কারনে উল্লেখ্য কমিশনার ইমদাদুল হক বাচ্চু পরিবার ও রাজ্জাক ফকির গং পরিবারের সাথে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবদমান দুটি গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে কোঁদল চলে আসছে। গত দুমাস আগে এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করার ঘটনা থেকে কমিশনার ইমদাদুল হক বাচ্চুর ছেলে রিজুকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত বুধবার সন্ধ্যায় উভয় গ্রুপের লোকজন তুচ্ছ কথা নিয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে মিনি সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরে রাজ্জাক ফকিরের লোকজন কমিশনার বাচ্চুর লোকজনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আজ রবিবার আদালত থেকে জামিনে পাওয়ার পরে দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে কমিশনার বাচ্চুর লোকজন তাদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এসময় রাজ্জাক ফকিরের লোকজন বাঁধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়িয়ে পরে সংঘাতে।

print

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here