• শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমিনের মৃত্যুতে শোক প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে সরাসরি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা ১০ টাকার টিকিট কেটে চোখ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী ভাঙ্গায় নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভাবনা সেমিনার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফুটবলারকে গুলি করে হত্যা ভাঙ্গায় আরও ৪০টি ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ঘর বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হলো বাংলাদেশ ভাঙ্গা মাদানী নগর কবর স্থান পরিচালনার নতুন কমিটি গঠন অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ মৃধা ভাঙ্গায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, পুলিশকে দুষছেন বিএনপির আমান

পিলখানা ট্র্যাজেডির এক দশক

Reporter Name / ৯৯৪ Time View
Update : সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। আজ পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস। ২০০৯ সালের এদিনে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের (বর্তমান বিজিবির সদর দফতর) দরবার হলসহ আশপাশের এলাকা। পিলখানা ছাপিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ঢাকাসহ সারাদেশে।

বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে চলে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। দরবার চলাকালে দরবার হলেই তৎকালীন বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদকে হত্যা করেন উদ্ধত জওয়ানরা। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

সেদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটের দিকে বিজিবির বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়ে একদল বিদ্রোহী সৈনিক। এদের একজন তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে যায় ইতিহাসের সেই নৃশংস ঘটনা। বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুঁড়তে থাকে তারা।

বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশপাশ এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। পরে পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। ৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিজিবি সদস্য ও পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন।

ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। যার মধ্যে হত্যা মামলায় আসামি করা হয় ৮৫০ জনকে। আর বিস্ফোরক মামলায় আসামি সংখ্যা ৮৩৪ জন। এর মধ্যে একজন সিভিলিয়ান, বাকিরা বিডিআরের জওয়ান। এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। এতে খালাস পান ২৭৭ জন। পরে ২০১৭ সালে ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া ১৩ জনের মধ্যে আটজন যাবজ্জীবন চারজন খালাস পান।

বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে। কিন্তু গত ১০ বছরে ওই মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়নি। এক হাজার ২৬৮ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়েছে। হত্যা মামলায় খালাস পেলেও বিস্ফোরক মামলার কারণে এখনও কারাগারে আছেন ২৪৬ জন। আবার হত্যা মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ না হওয়ায় এসব রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছেন না আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ অবস্থায় ঠিক কবে নাগাদ বিচার শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ