• শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন

এক নারীর গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব দাবি দুই যুবকের!

Reporter Name / ৪৭৫ Time View
Update : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯

ফরিদপুর সংবাদদাতা :: এবার এক নারীর গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করেছেন দুই যুবক। এই নিয়ে কয়েক দফায় সালিশ করেও কোন সমাধান করতে পারেনি গ্রাম্য মাতবররা। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দায়। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ঘটনাটি টক অব দি টাউনে পরিণত হয়েছে।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদি গ্রামের আলমগীর কাজির মেয়ে নাজমা বেগম (২৬) বর্তমানে ‘চার মাস’অন্তঃসত্ত্বা।

১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জুনাসুর গ্রামের বাদশা লস্করের ছেলে ছাবু লস্করের (৩৬) সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট ছাবুকে তালাক দেন নাজমা। এরপর থেকে বাবার বাড়িতে থাকতেন।

এরই মধ্যে একই উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের লাল মোল্লার ছেলে হেলাল মোল্লার (৩০) সঙ্গে নাজমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৭ ডিসেম্বর তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।

নতুন স্বামী হেলালের সঙ্গেও নাজমার ঝামেলা দেখা দেয়। ফাঁকে প্রথম স্বামী ছাবুর সঙ্গে বাড়তে থাকে ঘনিষ্টতা। এরই মধ্যে গত ১ মার্চ দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দেন নাজমা। নতুন করে ফিরে যান প্রথম স্বামীর ঘরে।

নাজমার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হলে জটিলতা দেখা দেয়। গর্ভের সন্তান নিজের দাবি করেছেন তার বর্তমান এবং সাবেক-দুই স্বামীই।

হেলাল নাজমার গর্ভের সন্তানকে নিজের দাবি করে বলেন, এই সন্তান আমার। প্রথম স্বামীর সঙ্গে নাজমার সখ্যতা বাড়ার পর সংসারে অশান্তি দেখা দেয়। আমার কাছেই সে গর্ভবতী হয়। বর্তমানে সে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হঠাৎ করেই সে আমাকে তালাক দিয়ে ছাবুর কাছে চলে গেছে।

তিনি বলেন, তালাকের পরে আমার বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাব নিয়ে গেছেন নাজমার পরিবার। সেসব ফেরত পেতে মামলা করার পরে তার বাবা ও স্বামী আমাকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে গর্ভের সন্তান নিজের দাবি করে ছাবু বলেন, নাজমা ফিরে আসার পর গর্ভধারণ করেছে। বর্তমানে সে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমাদের পুনর্মিলন সহ্য করতে পারছেন না হেলাল মোল্লা। এজন্য আমার সন্তানের বাবা দাবি করে তিনি হয়রানি করার জন্য স্ত্রীর নামে চুরির মামলা দিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি নাজমা।

এ বিষয়ে পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিমাংসার চেষ্টা চলছে। শিগগিরই বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার সকল চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category