• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
‘রুদ্ধদ্বার’বৈঠকে তৃতীয় দিনে বিএনপি ইভ্যালির চেয়ারম্যান-সিইওর বাসায় র‌্যাবের অভিযান জিয়ার লাশের নামে বাক্স সাজিয়ে-গুছিয়ে আনা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার দাবি সাংবাদিকদেরই : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনলাইন সংবাদপোর্টাল নিবন্ধন চলমান প্রক্রিয়া, হাইকোর্টের নির্দেশনা শৃঙ্খলায় সহায়ক : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী রোববার থেকে ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ অসত্য উপস্থাপন করা বিএনপির রেওয়াজে পরিণত হয়েছে: কাদের ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইওর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা কেজি প্রতি দইয়ে ৩০০ গ্রাম কম! লাখ টাকা জরিমানা ভাঙ্গায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ও জবাদিহিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নির্মাণাধীন ভবনের লার্ভায় কঠিন হয়ে পড়ছে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ

Reporter Name / ৯৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে ব্যাপক লার্ভার কারণে রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পরিচালিত অভিযানে বেশিরভাগ নির্মাণাধীন ভবনেই মিলছে এডিস মশার লার্ভা ও মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ। বারবার সতর্ক করা হলেও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা সচেতন হচ্ছে না। এমনকি দূষিত পরিবেশের কারণে সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করার কিছুদিন পর ওসব নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের পরিদর্শকরা আবারো এডিস মশার লার্ভা ও বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে। ফলে কঠিন হয়ে পড়ছে এডিস মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, লকডাউন বা করোনা মহামারির কারণে অনেক নির্মাণাধীন ভবনের কাজই বন্ধ। ওসব ভবনের বেজমেন্ট ও বিভিন্ন তলায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান বা মালিকরা সেদিকে নজর দিচ্ছে না। ফলে ওসব ভবন এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়তা করছে। তাছাড়া বৃষ্টি না হলেও নির্মাণকাজ চলাকালে ব্যবহৃত পানি নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকায় সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এডিস মশার লার্ভার কারণে যেসব ভবনকে জরিমানা করেছে তার অধিকাংশই নির্মাণাধীন ভবন।
সূত্র জানায়, অভিযান ও প্রচারের কারণে এডিস মশার লার্ভার বিষয়ে বাসাবাড়ির মালিকদের মধ্যে অনেকটা সচেতনতা ফিরেছে। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মালিক ও যুক্ত অনেকের মধ্যে সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। নির্মাণাধীন ভবনেই এডিস মশার লার্ভা ও মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য উভয় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেই নির্মাণাধীন ভবনগুলোর দিকে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যাদের জরিমানা করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই নির্মাণাধীন ভবন। এডিস লার্ভার বিষয়ে গত জানুয়ারি থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু নির্মাণাধীন ভবন মালিকরা সচেতন না হওয়ায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
সূত্র আরো জানায়, ঢাকাতেই এডিস মশার কামড়ে ৯৯ শতাংশ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি হিসাবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১০ জন মারা গেছে। আর প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ২০০ মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তার মধ্যে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার চিত্র বেশ ভয়ঙ্কর। এ পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা রীতিমতো উদ্বেগজনক মনে করছে। কারণ করোনার মহামারিকালে ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহতা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে বেশি মাত্রায় এডিস মশার লার্ভা ও মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ বেশি পাওয়া যাওয়ার সময়ই রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে ওই ব্যাপারে ডেভেলপারদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়। যেসব নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা ও মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে, সেগুলোর মালিকদের জরিমানা করা হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, জরিমানা করার কিছুদিন পর সেসব ভবনেই আবার এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামও সম্প্রতি রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) নেতাদের নিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি রিহ্যাব ও বিএলডিএ নেতাদের নির্মাণাধীন ভবন ও আবাসন প্রকল্পগুলোতে যাতে এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ না থাকে সে বিষয়ে রিহ্যাব ও বিএলডিএ সদস্যদের নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন। তারপরও সিটি করপোরেশনের অভিযানে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে এডিস মশার দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আল আমিন জানান, মেয়রের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে রিহ্যাব সদস্যদের এ ব্যাপারে চিঠি, মোবাইলে মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেয়া হচ্ছে। তাদের বলা হয়েছে সাইটগুলো যেন সবাই পরিস্কার রাখে। নিজ উদ্যোগে এডিস মশার ওষুধ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এমনকি রিহ্যাব সদস্যদের ওসব কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা মনিটর করতে ৬টি টিমও করে দেয়া হয়েছে। তবে অনেক ছোট কোম্পানি আছে যাদের লোকবলের ঘাটতি আছে। কোরবানির ঈদের আগে সেগুলোর শ্রমিকরা বাড়িতে গিয়ে আর ফিরতে পারেনি, তাদের ভবনগুলোতে কিছু সমস্যা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category