• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন

‘আমার শহর আমার গ্রাম’ নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নে ভুমিকা রাখছে ভাঙ্গার এসএফডিএফ

Reporter Name / ২৭১ Time View
Update : রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক :: গ্রাম-শহর সমানভাবে উন্নত হলেই একটা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। কেবলমাত্র শহরের উন্নয়ন দিয়ে কখনই একটা দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব নয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী। আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভূমিকা পালন করে থাকেন। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের ‘গ্রাম-শহর সমান উন্নতি’ নীতির কারণে এবং অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, অবদান রাখছেন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমার শহর আমার গ্রাম বাস্তবায়নে। যেমন তাদেরই একজন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের আরুয়াকান্দি গ্রামের পপি খাতুন।

পপি খাতুন কয়েক বছর আগে ঢাকা শহরে গিয়েছিলেন বান্ধবী রিনার হাত ধরে। ইচ্ছে ছিল গ্রামের গরীব বাবা-মাকে সাহায্য করা। শুরুতে এক গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন। বেতন ছিল আট হাজার। শুরুতে কারখানায় হেলপারের কাজ করলেও পরে আস্তে আস্তে নিজেই শিখে যান সেলাইয়ের কাজ। এভাবে প্রায় দু’বছর কাজ করার পর বেতন দাঁড়ায় সাড়ে নয় হাজার টাকায়। চার হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে বাকি সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় ঢাকায় থাকা-খাওয়া খুব কষ্ট হয়ে যেত পপির। সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে যাবেন।

সেখানে ফিরে প্রথমে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের এসএফডিএফ ভাঙ্গা উপজেলা অফিসের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নেন কাপড় কাটার। তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন কিনে ঘরের মধ্যে নিজেই শুরু করেন সেলাইয়ের কাজ। প্রথমে খরিদ্দার পেতে কিছুটা কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে । তারপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি পপিকে । নিজের বিয়ের সব খরচ নিজেই বহন করেছে পপি। এক সময় বিয়ে করেন। বিয়ের আগে নিজের জমানো টাকা দিয়ে ছোট ভাইকে কিনে দিয়েছে দু’টি ব্যাটারী-চালিত ইজি বাইক । পপির মতো অনেক নারীই এখন শহর ছেড়ে ফিরে আসছে নিজের গ্রামে। গ্রামে এসে তারা চেষ্টা করছেন কিছু না কিছু অর্থ উপার্জন করে সাবলম্বী হতে। ফলে গ্রামে বাড়ছে নারীদের শ্রমশক্তি। এর ফলে চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতিও ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে বলা হয়েছে, এখন দেশের মোট শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি। গ্রামের শ্রমশক্তিতে যুক্ত নারীদের ৬০ শতাংশই আছেন কৃষি খাতে ।
পপি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ নারীই সে সব সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। যদি তারা একটু সচেতন হন, তবে অনেক সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে যাতে করে নারীরা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারে এবং স্বাবলম্বী হতে পারেন ।

ভাঙ্গা এসএফডিএফের(এলজিআরডি) উপজেলা কর্মকর্তা জনাব মোঃ শাহ আলম বলেন, আগে নারীরা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য গ্রাম থেকে শহরে চলে যেত । এর মূল কারন ছিল গার্মেন্টস শিল্প। মূলত নারীরা শহরেই যেত এসব পোশাক কারখানায় চাকরি করে নিজের খরচ চালানোর জন্য। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব এলাকার চিত্র অনেকটা পাল্টে গেছে। কারণ এই সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে চায় এই সরকার।

এজন্য নেয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ের এসএফডিএফ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন এসএফডিএফের নিকট প্রশিক্ষন ও ঋণ নিয়ে এখন অধিকাংশ বাড়ীতেই গড়ে উঠেছে খামার। আর এসব খামারে হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়া এবং গরু পালনের পাশাপাশি অনেক শাক-সবজি চাষ অথবা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। আর এসব করছেন বাড়ীর মেয়েরাই বেশি। আর এর ফলে নারীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন আবার গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে। বর্তমানে পপি বেগমের মত ভাংগার এসএফডিএফের প্রতিটি উপকারভোগিদের সংসারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা । বাড়ীতে স্থাপন করেছেন স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ লাগিয়েছেন বাড়ীর চারপাশে বিভিন্ন ধরনের বৃক্ষ। স্বামী সন্তানদের নিয়ে তারা এখন সুখে শান্তিতে দিন যাপন করছেন।

এসএফডিএফের ’র প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তার ফলে তাদের পরিবার আজ সুখী। এছাড়া যারা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের মাঝে দেওয়া হয়েছে কোভিড-১৯ প্রণোদনা ঋণ ।

এ পর্যন্ত প্রনোদনা ঋণ ২৪ জনকে ৫৮ লক্ষ টাকা দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থরা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ।এভাবেই আমার শহর আমার গ্রাম বাস্থবায়নে কাজ করে যাচ্ছে এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের এসএফডিএফ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ