• রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০১:২০ অপরাহ্ন

প্রকাশনার ১৯ বছরে “ভাঙ্গার খবর”

Reporter Name / ২২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

মনে হয়

এইত সেদিনের কথা! ২০০৪ সাল। আজ থেকে প্রায় ১৯ বছর আগে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার পশ্চিম হাসামদিয়া গ্রামে (পৌরসভার বর্তমান ওয়ার্ড ৪) আমার জন্ম। যেখানকার আলো বাতাস আর প্রকৃতির সাথে খেলা করে আমার বড় হয়ে উঠা। আবার যেখান থেকে সাংবাদিকতার মত মহৎ পেশায় আমার হাতে খড়ি। সংক্ষিপ্ত করে যদি বলি তখন আমি “আজকের কাগজ” পত্রিকার ভাঙ্গা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করি। এর আগে দৈনিক ঠিকানা (ফরিদপুর) এবং দৈনিক জনতার সংবাদ (ঢাকা) এ কাজ করি। সেই থেকে নিজের মনের স্বপ্ন ছিল একটি পত্রিকা প্রকাশনার। কিন্তু স্বাদ আছে, সাধ্য ছিল কম। আজও সেই একই অবস্থায় আছি।

তবে সম্মানের কথা ভেবে অনেক কিছুই করা হয়ে উঠেনি। কারন সাংবাদিকতা পেশা আমাকে সবার ভালবাসা এবং সম্মান দিয়েছে বলে আমি হতে পেরেছি সংবাদ কর্মী।যাইহোক একদিন আজকের কাজগ এর ঢাকা অফিসে সারা দেশের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সুবাধে আমাদের গোপালগঞ্জ এর মুক্সুদপুর থানার আজকের কাজগ প্রতিনিধি হায়দার ভাইর সাথে আমার পরিচয়। তখন হায়দার ভাই পাক্ষিক মুক্সুদপুর সংবাদ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকাটি নিয়মিত আজো প্রকাশিত হচ্ছে। তার কাছে আমার স্বপ্নের কথা একদিন প্রকাশ করি।

এরপর তিনি আমাকে প্রকাশনার সকল তথ্যাদির বিষয়ে সহযোগিতা করেন। এরপর বিশেষ সহযোগিতা সেদিন আমাকে করেছিলেন সেই সময়ের ভাঙ্গা থানার ওসি নজরুল ইসলাম এবং জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার। ভাঙ্গা থানার সবচেয়ে পুরাতন প্রেস “ন্যাশনাল আর্ট প্রেসের” মালিক আমার শ্রদ্ধীয় কাকা পাশের গ্রাম নুরপুর গ্রামের মহিউদ্দিন মুন্সী এবং তার ছেলে লাইবুল মুন্সী। যারা দুজনেই আজ আমাদের মাঝে নেই। (তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি)।

এছাড়া আমাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন সাংবাদিক মেহেদি হাসান তুষার, ভিপি আক্রামুজ্জামান মিঠু, সিনিয়র সাংবাদিক এটিএম ফরহাদ নান্নু, সরোয়ার হোসেন,  মনিরুজ্জামান মিয়া, তুরান, ওবায়দুল আলম সম্রাট, রাহাত বেগ, সালমান মুন্সী, জাহিদ শিকদার, শাহাদাৎ হোসেনসহ আরও অনেকেই। তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা ভাঙ্গার খবর পত্রিকার জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ হয়ে করেছেন অক্লান্ত পরিশ্রম। এমনি করেই এভাবেই “ভাঙ্গার খবর ” প্রকাশনার গতি এসেছিল এবং আমার জীবনে এসেছিল মাহেন্দ্রক্ষণ।

ভাঙ্গার প্রথম পত্রিকা হিসাবে সেদিন সবাই পত্রিকা সাদরে গ্রহন করেছিল। তারপর অনেক চরাই উৎরিয়ে পার করেছে ‘ভাঙ্গার খবর। কিন্তু তারপরেও সবার ভালবাসা নিয়ে আজও এগিয়ে চলেছে ভাঙ্গার খবর। ২০০৪ সালের ৯ফেব্রুয়ারি থেকে ভাঙ্গার প্রথম পত্রিকা এবং “ভাঙ্গার খবরের” প্রথম সংখ্যা প্রকাশনা পর্ব শুরু হয় ।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস চলছে। এ মাসেই ভাঙ্গার মানুষের মুখপত্র “ভাঙ্গার খবর” ১৪ বছরে পদার্পণ। পাইলট হাই স্কুল সড়কের অফিস কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এবং ক্ষুদে শিশুদের কেক কাটার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে “ভাঙ্গার খবরের”১৪ বছরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

১৯ বছর পূর্তিতে “ভাঙ্গার খবর” এর সকল পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভান্যধায়ীদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রকাশনার ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে আমার প্রিয় জামিল ভাইর অকৃতিম সহযোগিতার জন্য তাকেও ভাঙ্গার খবর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের অভিনন্দন।

তবে প্রকাশনার ১৯ বছরের এই ক্ষণে দুটি মানুষের কথা না লিখলেই নয়। তাদের একজন প্রয়াত ইসলাম ভাই (ঠিকাদার ইসলাম ভাই) ও ভাঙ্গা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আওলাদ মুন্সী। যারা আমাদের ভাঙ্গার খবর পত্রিকার নিবেদিত দুটি নাম। আজ মানুষদুটি আমাদের মাঝে নেই। ভাঙ্গার খবর পত্রিকার পরিবারের সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

চলাম সময়ে ভাঙ্গার খবর পত্রিকার প্রকাশনার ক্ষেত্রে আরও তিনজন মানুষের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তারা হলেন ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন। একই সাথে দক্ষন বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইকামাতেদ্বীন মডেল কামিল (এমএ) মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইউছুফ মৃধা ভাঙ্গার খবর পত্রিকার প্রকাশনার অগ্রযাত্রার অগ্রণী ভূমিকায় আজো আমাদের পাশে রয়েছেন। আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই অসংখ্য পাঠকদের কাছেও।

মামুনুর রশিদ
সম্পাদক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ