• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

ভাঙ্গায় আরএমও ও চিকিৎসকদের থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে জনগণ

Reporter Name / ১২৭ Time View
Update : শনিবার, ৭ মে, ২০২২

লিড-নিউজ দক্ষিণাঞ্চল অফিস :: দক্ষিনাঞ্চল এর প্রবেশ দুয়ার হিসেবে ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলা একটি বিশেষ উপজেলার কোঠায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে ভাঙ্গায় আকর্ষণীয় দৃষ্টি নন্দন এশিয়ান হাইওয়ে এক্সপ্রেস উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে দেশ ও দশের কাছে এই উপজেলার গুরুত্ব শতভাগ বেড়ে গেছে বলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের অভিমত।

চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকতায় ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভাসহ ১২টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লক্ষাধীক জনগণের জন্য একমাত্র প্রধান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সমানতালে মানবিক মর্যাদায় প্রতিনিয়ত হাসপাতালে ইনডোর ও আউটডোরে জনগণের সেবা প্রদান করে আসছেন।

সরকারের বিধিমালা অনুসারে চিকিৎসকেরা নিজের জেলায় কর্মরত থেকে চিকিৎসা প্রদান করার ধারাবাহিকতায় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হিসেবে কাজ করছেন ভাঙ্গার সন্তান ডাঃ এমএম মঈনু উদ্দিন সেতু। তিনি অত্যন্ত সুদক্ষ, মেধাবী ও বিনয়ী প্রকৃতির চিকিৎসক হওয়ায় ইতিমধ্যে স্থানীয় জনগণ ও হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের কাছে বেশ বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। সূত্র মতে চিকিৎসক এমএম মঈনু উদ্দিন সেতুর স্ত্রী তিনিও একজন গাইনী বিশেষজ্ঞ এবং ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। তিনিও ভাঙ্গার সন্তান। তার হাত ধরেই হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রসূতি মায়েদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার নিরাপদ একটি ইউনিট গড়ে উঠেছে।

সাধারণ রোগীদের ভাষ্যমতে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তার কাছে চিকিৎসার জন্য গেলে তিনি গুরুত্বের সাথে একজন রোগীর সেবা প্রদান করেন। দিন দিনে ভাঙ্গা হাসপাতালের রোগীদের সেবারমান এভাবেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইনডোর ও আউটডোরের সেবাকারীরা।

এছাড়াও হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা প্রসঙ্গে অন্যান্য চিকিৎসকদের একই বক্তব্য উঠে এসেছে। তাদের অভিমত এমন একজন আবাসিক (চিকিৎসক) কর্মকর্তার সাথে কাজ করে তারা নিজেরাও গৌরবিত এবং সম্মানিত বলে কর্মরত চিকিৎসকরা নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন লিড-নিউজ প্রতিবেদকের কাছে।

তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ আরও বলেন, মূলত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর প্রধান হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা পর্ষদ এর দায়িত্ব পালনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মহসীন উদ্দিন ফকির প্রতিনিয়ত অগ্রনি ভুমিকা পালন করে আসছেন। তিনি চিকিৎসকদের সমন্বয় করে (টিম ওয়ার্ক ভাঙ্গা) নিয়ে সত্যিকার অর্থে রোগীদের প্রকৃত সেবাদান করার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয় সংঘটিত হচ্ছে বলে চিকিৎসক মহল মনে করেন।

উল্লেখ না করলেই নয়!
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টার সূত্রতায় আজ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েক কোটি (১০ কোটি ) ব্যয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক ভবন (১০০শয্যা আবেদনকৃত) নির্মাণ করার পাশাপাশি আজ চিকিৎসক সংখ্যার সংকট প্রায় নেই বললেই চলে।

তবে দক্ষিণ বঙ্গের বিশেষ থানা হাসপাতাল হিসেবে ভাঙ্গা হাসপাতালের অভ্যন্তরে চিকিৎসার সেবার মান উন্নয়ন হয়েছে সত্য কিন্ত বিবিধ কিছু সমস্যা রয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজের দাবী স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতারা যদি বিশেষ দৃষ্টি দেন তাহলে অচিরেই ভাঙ্গা হাসপাতালের সকল সংকট কাটিয়ে একটি পরিপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলোকিত হয়ে উঠবে।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি (তিনি) নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। টিকিত বহির্বিভাগ থেকে ৫ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কেটে ১৬ নম্বর কক্ষের দায়িত্বরত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে দেখালাম। এত সুন্দর ও বিনয়ী হয়ে চিকিৎসক আমাকে দেখলেন এতে আমি সন্তুষ্ট বলে দাবী করেন তিনি। তারমতে ভাঙ্গায় চিকিৎসা সেবারমান ভাল হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

এছাড়াও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান এর প্রচেষ্টায় একজন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে অফিস চলাকালীন সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রোগীদের নিরাপত্তা ও সেবার জন্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মৌখিক আবেদন প্রেক্ষিতে ভাঙ্গাবাসীর সুচিকিৎসার পাওয়ার লক্ষে জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার মধ্যে দিয়ে ভাঙ্গাবাসীর সুচিকিৎসা ব্যবস্থার উন্মোচন হয়েছে বলে মনে করেন ভাঙ্গার সুশীল সমাজ।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে ডিজিটালে রুপান্তরিত করার মধ্যে দিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় পৌঁছে দিয়েছেন যাতে করে দেশের জেলা ও উপজেলার প্রতিটি নাগরিক সরকারী হাসপাতাল থেকে সুচিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপির পক্ষ থেকে আমরা উপজেলা পরিষদের সেবাখাত থেকে ভাঙ্গা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের কথা ভেবে একজন স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তার ভাষ্যমতে মানবসেবার জন্য ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ন্যায় সকল জনপ্রতিনিধিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করনার প্রথম ঢেউ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত ভাঙ্গাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলা থেকে অসংখ্য রোগীর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর উপরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন গড়ে উঠছে। ভবনের কাজ প্রায় সমাপ্তের পথে। এজন্য পুরাতন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে জায়গা সংকটের মধ্যে থেকেও বর্তমান সময়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবাদানে চিকিৎসক হিমসিম ও রোগীদের কিছুটা কষ্ট হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন জনবান্ধব সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রায় ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি হাসপাতালের নতুন ভবনের কাজের অগ্রগতির দিকে শুভদৃষ্টির প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে চিকিৎসক ও হাসপাতালের ইনডোর ও আউট ডোরের সকল সমস্যা অচিরেই দূর হবে বলে তিনি মনে করেন। হাসপাতালের বিবিধ সমস্যা বিষয়ে তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভুল ত্রুটি নেই বা হচ্ছে না বলব না। কোন অভিযোগ পেলে আমরা তাক্ষনিক তার সমাধানের চেষ্টা করি। তবে হাসপাতালে একটি অসংখ্য দালালদের ছড়াছড়ি ছিল। স্থানীয় সম্মানিত সংসদ সদস্য, জেলা সিভিল সার্জন, ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক মহল ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা একটি দালাল মুক্ত হাসপাতাল চালাতে সক্ষম হয়েছি দাবী করে এই কর্মকর্তা আরও বলেন দালালদের প্রতিনিধি ছাড়া হাসপাতালের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ করেছে বলে তার জানা নেই।

প্রসঙ্গত কারণে উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলা সরকারী হাসপাতালে একটি সময় চিকিৎসক সংকট থাকায় জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। কিন্ত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের শুভদৃষ্টি ও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সংকটগুলো একে একে সমাধান হতে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য সূত্র মতে, ভাঙ্গায় আজ ২০জন চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার) বর্তমানে কর্মরত আছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ খালি ছাড়া (হার্ট ও চক্ষু) কোন পদ শূন্য নেই বলে জানা যায়।

এছাড়া প্রসূতি মায়ের নিরাপদ অপারেশন করার পাশাপাশি প্রতিদিন আউট ৫ শতাধিক রোগী চিকিৎসা পাচ্ছে আর ৬০ থেকে ৭০জন ইনডোর ভর্তি রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। করোনাকালীন আপদে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন ঝুঁকি রেখে ভাঙ্গার শত শত করোনা রোগী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে ভাঙ্গায় একটি মাইলফলক গড়েছেন বর্তমান ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সরকারি কর্মকর্তা ডাঃ মহসিন উদ্দিন ফকির, ডাঃ এমএম মঈনু উদ্দিন সেতুসহ কর্মরত অন্যান্য সকল চিকিৎসকগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ