• শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেলে ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল হয়ে উঠে সরকারের-নিক্সন

Reporter Name / ৮৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বর মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, জনগণ যখন পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনিক দপ্তর থেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পায় তখন সরকারের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠে অনুরূপ সকলের কাছে প্রশাসনের দক্ষতা সমুজ্জ্বল হয়ে উঠে।

তিনি বুধবার (২০জুলাই) সকালে ভাঙ্গা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় ভাঙ্গার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের ধীরগতির জন্য চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।

এর আগে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা (সদ্য বিদায়ী ) প্রসঙ্গে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা, বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপস্থিত সুধীজন বিভিন্ন সময়ে থানায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের এক অভিযোগ তুলে ধরেন সংসদ সদস্যদের কাছে।

ঘারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুনসুর আহমেদ সংসদ সদস্যর কাছে মালিগ্রাম কালামৃধা সড়কটি প্রসঙ্গে অভিযোগ করেন প্রায় দুবছর ধরে ঠিকাদারের অবেহেলার কারণে প্রতিদিন শত শত জনগণ ভাঙ্গা শহরে আসতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

নুরুল্লাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুর রহমান, হামিরদী ইউপি চেয়ারম্যান খোকন মিয়া ও আলগী ইউপি চেয়ারম্যান মম সিদ্দিক মিয়া অভিযোগ করেন তাদের ইউনিয়নগুলতে মাদকের ছড়াছড়ি। কিন্তু পুলিশ নীরব। অভিযোগ দিলেও  তা পুলিশ ক্ষতিয়ে দেখে না।

সংসদ সদস্য বলেন, থানায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা অবশ্যই যাবে। কিন্ত একজন দায়িত্ববান পুলিশ অফিসারের কাছে থেকে অসাদচরন কখনও কাম্য নয়। সরকার দলের নেতারা থানায় যাওয়ার অর্থ মানে কোন দালালী নয়? ভাঙ্গার আওয়ামীলীগ বা অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতাকর্মী বা আমার যুবলীগের কেউ গিয়ে দালালি করে না। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সদস্যদের এহেন আচরণ আমাদের বোধগম্য নয়!

আমি শুনেছি ওই ওসি নিজের ইচ্ছেমত থানা চালাতেন, নিজের ইচ্ছেমত মামলা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে এলাকার আইন শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি ছিল নাজুক অবস্থায়। যেখানে সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কোন অসহায় পরিবার থানায় গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে সাহায্য না পেয়ে ফিরে আসতেন।

শুধু তাই নয় স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে তিনি কখনো সৌজন্যমূলক আচরণ পর্যন্ত করতেন না। আমার কাছে অনেকেই অভিযোগ করেন।

পুলিশ সরকারী কর্মচারী। জনগণের জানমালের দায়িত্ব হেফাজত করেন। এদেশে পুলিশের একটি ইতিহাস আছে। তাহলে সারাদেশের পুলিশের একচিত্র দেখাগেলেও ভাঙ্গায় পুলিশের ভিন্ন চরিত্র দেখা  যাবে কেন  প্রশ্ন তুলেন সংসদ সদস্য।

নতুন যিনি ভাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আসছেন তিনি ভাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সকলের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করবেন বলে প্রত্যাশা রাখেন সংসদ সদস্য।

ভাঙ্গা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী দপ্তরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, মাসের পর মাস ধরনা নিয়ে একজন সংসদ সদস্য বিভিন্নভাবে তদ্বির করে এলাকার মানুষের জন্য রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কাল্ভাটসহ সরকারের উন্নয়ন তহবিলের কাজ আনা হয়। কিন্ত ভাঙ্গা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী দপ্তরের উদাসীনতার ফলে বছরের পর বছর পরে থাকে রাস্তার উন্নয়ন বা সংস্কারের কাজ। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। এছাড়া রয়েছে ঠিকাদারদের কাজের নিম্নমানের চিত্র।

এলাকার জনগণ প্রায় অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা সংস্কারের চেয়ে আমরা ভাঙাচুরা রাস্তায় ভাল ছিলাম। রাস্তা খোঁড়ার নামে ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছেমাফিক মর্জিতে কাজ করবেন আগামী যেন ভাঙ্গায় এমনচিত্র আমাদের দেখতে হয় না। যারা কাজ পেয়ে কাজ না করে শুধু রাস্তার পাশে মালামাল রেখে জনগণকে বছরের পর বছর ভোগান্তির শিকার করবেন তাদের কাল তালিকা করতে হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ মহাসড়ক থেকে ইজিবাইক উচ্ছেদ অভিযান চালায়। কিন্ত হাইওয়ে থানার সামনেই গড়ে উঠেছে ইজিবাইক বাস স্ট্যান্ড! এসবব কি করে হচ্ছে? জনগণ আজ আর বোকা নয়। তারা সবই বুঝতে পারেন।

ভাঙ্গা ফ্লাইওভার এবং এক্সপ্রেস ওয়ে প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভাঙ্গার সৌন্দর্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশের প্রথম একপ্রেসওয়ে ভাঙ্গায় নির্মাণ করেছেন। এর সৌন্দর্য রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন শেষে ভাঙ্গায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্ত পরিবহন সেক্টরের কিছু কিছু অসাধু শ্রমিকরা ভাঙ্গার দুটি বাসস্ট্যান্ডর পাড়ে ভাঙ্গা-ঢাকার পরিবহনগুলকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এসব সহসায় কারো চোখে আসছে না। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এসব চলবে না। এসবের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

ভাঙ্গা নতুন পৌরসভার সামনে বিভিন্ন বাসের অপরিকল্পিত কাউনটার ঘর উঠে ফ্লাইওভার এবং এক্সপ্রেস ওয়ের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়ে সংসদ বলেন, একটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অপরিকল্পিত কাউনটার ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত যায়গায় বসার ব্যবস্থা করে ফ্লাইওভার এবং এক্সপ্রেস ওয়ের সৌন্দর্য রক্ষা করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে সংসদ সদস্য উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় থানা ও হাইওয়ে পুলিশ এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য আইনশৃঙ্খলা সভায় ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যেগে ঈদ যাত্রায় ভাঙ্গা থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করায় উপস্থিত সকলে ধন্যবাদ জানান। এ অভিযান অব্যাহত থাকলে দুরপাল্লার গাড়িতে ভাড়া বিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন বলে মনে করেন বক্তারা।

পাশাপাশি সংসদ সদস্য চরম সমালোচনা করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতা ভাঙ্গায় একটি বাসের টিকিট ঘরের নাম শেখ রাসেল কাউনটার নামকরণে। তিনি বলেন কেউ কেউ নিজের স্বার্থ হাসিলে শিশু রাসেলের নাম ব্যবহার করে আজ কোথায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে গেছে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে নিন্দা জানান সংসদ সদস্য।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা ইসাহাক মোল্লা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুলী আক্তার, প্যানেল মেয়র আইয়ুব আলী, কমিশনার পারুলী আক্তার, আওয়ামীলীগ নেতা এ্যপল নওরোজ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিকগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ